মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর ২০২৬ - ১৭:২০
গ্যাস রপ্তানিকারক দেশগুলোর ফোরাম প্রতিষ্ঠায় আয়াতুল্লাহ খামেনির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রশংসা পুতিনের

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন গ্যাস রপ্তানিকারক দেশগুলোর ফোরাম (জিইসিএফ) প্রতিষ্ঠায় শহীদ বিপ্লবী নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। মস্কোয় ফোরামের অষ্টম শীর্ষ সম্মেলনে তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের একতরফা নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলায় গ্যাস রপ্তানিকারক দেশগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বানকেও স্বাগত জানান।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোপর্ট অনুযায়ী, মস্কো, ২৭ অক্টোবর ২০২৬: গ্যাস রপ্তানিকারক দেশগুলোর ফোরামের (জিইসিএফ) অষ্টম শীর্ষ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সহযোগিতা, একতরফা নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলা এবং গ্যাস উৎপাদনকারী দেশগুলোর পারস্পরিক সমন্বয়ের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ফোরাম প্রতিষ্ঠায় ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রশংসা করেছেন বলে ইরানি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানানো হয়েছে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান একতরফা নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে গ্যাস রপ্তানিকারক দেশগুলোকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার যে আহ্বান জানিয়েছেন, পুতিন সেই বক্তব্যকে স্বাগত জানান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

একতরফা নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান

বিশ্ব জ্বালানি বাজারে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পরিবর্তন এবং নিষেধাজ্ঞার প্রভাবের মধ্যে গ্যাস উৎপাদনকারী দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়টি এবারের সম্মেলনের অন্যতম আলোচ্য বিষয়।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান রাশিয়ার রাজধানী মস্কোয় অনুষ্ঠিত সম্মেলনে অংশ নিতে গেছেন। সম্মেলনে ইরানের পক্ষ থেকে বড় জ্বালানি মজুতসম্পন্ন দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার প্রস্তাব তুলে ধরার কথা রয়েছে। ইরানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পেজেশকিয়ান একতরফা নীতির বিরোধিতা করে দেশগুলোর মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

গ্যাস রপ্তানিকারক দেশগুলোর ফোরাম কেন গুরুত্বপূর্ণ?

গ্যাস রপ্তানিকারক দেশগুলোর ফোরাম বা জিইসিএফ হলো প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন ও রপ্তানিকারক দেশগুলোর একটি আন্তঃসরকারি সংগঠন। ২০০১ সালে তেহরানে এই ফোরামের প্রথম মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তী সময়ে সদস্য দেশগুলোর সহযোগিতার কাঠামো আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়।

ফোরামটির সদস্য দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে ইরান, রাশিয়া, কাতার, আলজেরিয়া, মিশর, নাইজেরিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ভেনেজুয়েলা, বলিভিয়া, লিবিয়া, ত্রিনিদাদ ও টোবাগো এবং নিরক্ষীয় গিনি। এসব দেশ বিশ্বে প্রমাণিত গ্যাস মজুত, উৎপাদন ও রপ্তানির একটি উল্লেখযোগ্য অংশের প্রতিনিধিত্ব করে। ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তাদের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ।

রুশ প্রেসিডেন্টের সহযোগী ইউরি উশাকভের বক্তব্য উদ্ধৃত করে ইন্টারফ্যাক্স জানিয়েছে, এবারের মস্কো সম্মেলনে গ্যাস শিল্পের ভূরাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ, জ্বালানি নিরাপত্তা, বাজারের স্থিতিশীলতা এবং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে প্রযুক্তিগত ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। সম্মেলনে একটি যৌথ ঘোষণাও গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে।

ইরান-রাশিয়া সহযোগিতার প্রেক্ষাপট

ইরান ও রাশিয়ার মধ্যে জ্বালানি, বাণিজ্য এবং কৌশলগত সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেও এবারের সম্মেলনকে দেখা হচ্ছে। পেজেশকিয়ান মস্কো সফরের আগে দুই দেশের সম্পর্কের অগ্রগতি এবং বিদ্যমান চুক্তিগুলো বাস্তবায়নের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।

দুই দেশের পাশাপাশি অন্যান্য গ্যাস উৎপাদনকারী রাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানো, জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তি বিনিময় এবং দীর্ঘমেয়াদি বাজার স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার বিষয়গুলোও আলোচনায় আসতে পারে।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি রাজনীতিতে সম্ভাব্য তাৎপর্য

গ্যাস রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি পেলে জ্বালানি সরবরাহ, বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে নিষেধাজ্ঞা ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা কীভাবে জ্বালানি বাণিজ্যকে প্রভাবিত করছে, তা নিয়েও সদস্য দেশগুলোর মধ্যে আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

তবে ফোরামটির ভূমিকা মূলত সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সংলাপ, তথ্য বিনিময়, গবেষণা এবং সহযোগিতা জোরদার করা। একে সরাসরি তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেকের মতো গ্যাসের উৎপাদন ও মূল্য নিয়ন্ত্রণকারী ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচনা করা যথাযথ নয়।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha